একটি পুরোনো শিক্ষা আছে: সত্য কথা কখনো নিজের সাথে লড়াই করে না। একজন সাক্ষী যদি সকালে এক কথা বলেন আর বিকেলে তার উল্টো, আদালত তাঁর সাক্ষ্যকে দুর্বল ধরে। কুরআনও এই মাপকাঠিই দিয়েছে: এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসত, তবে এতে অনেক অসঙ্গতি পাওয়া যেত (সূরা আন-নিসা ৪:৮৩)।
আহমদী মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রায় একশো বছর ধরে নানা যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি যুক্তিকে আলাদা করে দেখলে কোনোটাকে জোরালো মনে হতে পারে। কিন্তু যখন সেগুলো পাশাপাশি রাখা হয়, তখন একটি অদ্ভুত ছবি ফুটে ওঠে: এক জায়গার ব্যাখ্যা অন্য জায়গার ব্যাখ্যাকে কেটে দেয়। একটি নীতি এক জায়গায় মানা হয়, আরেক জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।
এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়। যাঁরা এই ব্যাখ্যাগুলো বিশ্বাস করেন, তাঁরা আমাদের ভাই-বোন; বেশিরভাগই সরল মনে যা শুনেছেন তা-ই মেনেছেন। আমরা শুধু ২২টি জায়গা পাশাপাশি রাখব: “তাঁরা বলেন”, “অথচ তাঁরাই মানেন”, আর “তাহলে প্রশ্ন”। দলিল হিসেবে থাকবে কুরআন, হাদীস আর তাঁদের নিজেদের আলেমদের বই। বিচারের ভার আপনার।
এক: ঈসা (আ.) আকাশে জীবিত, এই বিশ্বাসের ভেতরের টানাপোড়েন
১. শেষ নবী, তবু একজন নবী আসবেন?
প্রচলিত বিশ্বাস দুটি। প্রথমত, মহানবী (সা.)-এর পরে কোনো ধরনের নবী আসতে পারেন না, দরজা পুরোপুরি বন্ধ। দ্বিতীয়ত, শেষ যুগে ঈসা (আ.) আসবেন।
অথচ যিনি আসবেন, তাঁকে মহানবী (সা.) নিজে এক হাদীসে চারবার “নাবিউল্লাহ ঈসা”, অর্থাৎ আল্লাহর নবী ঈসা বলেছেন (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান, হাদীস ২৯৩৭)। তিনি এলে নবী হিসেবেই আসবেন; তাঁর নবুয়্যত কেড়ে নেওয়া হবে, এমন কথা কোথাও নেই।
তাহলে প্রশ্ন: দরজা যদি সব অর্থে বন্ধ, একজন নবী ঢুকবেন কোন পথে? আর যদি একজন নবী আসতে পারেন, তাহলে “কোনো নবী নয়” কথাটি সব অর্থে চূড়ান্ত থাকে কি? “তিনি পুরোনো নবী, নতুন নন” বললেও সমস্যা মেটে না, কারণ কুরআন বা হাদীসে নতুন-পুরোনোর এমন কোনো ব্যতিক্রম লেখা নেই। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এই লেখায়।
২. “তাওয়াফ্ফা” সবার বেলায় মৃত্যু, শুধু একজনের বেলায় নয়?
জানাযার নামাযে আমরা সবাই মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়ি: “ওয়া মান তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ্ফাহু আলাল ইসলাম”, অর্থাৎ “আমাদের মধ্যে যাকে তুমি মৃত্যু দেবে, তাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দিও” (সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল জানায়েয, হাদীস ৩২০১)। এখানে “তাওয়াফ্ফা” মানে যে মৃত্যু, তা নিয়ে কেউ তর্ক করেন না।
কুরআনে আল্লাহ যখন কোনো মানুষের “তাওয়াফ্ফা” করেন, প্রায় সব জায়গায় এর অনুবাদ “মৃত্যু দেওয়া” করা হয়। কিন্তু ঠিক দুটি জায়গায় এসে অর্থ বদলে যায়: যেখানে কথাটি ঈসা (আ.)-এর জন্য এসেছে।
আর সবচেয়ে বড় কথা: কিয়ামতের দিন মহানবী (সা.) নিজের সম্পর্কে ঠিক এই বাক্যটিই বলবেন, “যেমন আল্লাহর নেক বান্দা বলেছিলেন” (সহীহ বুখারী, কিতাবুত তফসীর, হাদীস ৪৬২৫)। একই শব্দ, একই বাক্য। মহানবী (সা.)-এর বেলায় অর্থ মৃত্যু, ঈসা (আ.)-এর বেলায় অর্থ “সশরীরে তুলে নেওয়া”। একই বাক্যের দুই অর্থ কোন নিয়মে? দেখুন “তাওয়াফ্ফা” শব্দের আসল মানে।
৩. ঘুম, নাকি সশরীরে তুলে নেওয়া?
সূরা আলে ইমরানের “ইন্নি মুতাওয়াফ্ফীকা” আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রচলিত বইগুলো একমত নয়। কেউ বলেন, এর মানে ঈসা (আ.)-কে ঘুম পাড়িয়ে তোলা হয়েছিল। কেউ বলেন, এর মানে দেহ ও আত্মা দুটোই পুরোপুরি নিয়ে নেওয়া। দুটি ব্যাখ্যা একসাথে সত্য হতে পারে না; অথচ দুটোই একই বিশ্বাস রক্ষার জন্য দেওয়া হয়।
কুরআন নিজেই দেখিয়েছে, “তাওয়াফ্ফা” দিয়ে ঘুম বোঝাতে হলে সে কীভাবে বলে:
ঘুম বোঝাতে কুরআন স্পষ্ট করে “নিদ্রাকালে” যোগ করেছে। ঈসা (আ.)-এর আয়াতে এমন কোনো শব্দ নেই। আর এই আয়াতে ঘুমের সময় যা নেওয়া হয় তা “আনফুস”, অর্থাৎ রূহ, দেহ নয়। তাহলে “ঘুম” ব্যাখ্যা মানলে দেহসহ তুলে নেওয়ার দাবি টেকে না; আর “দেহসহ” ব্যাখ্যা মানলে কুরআনে এর একটিও নজির নেই।
৪. “রাফা” আমাদের জন্য মর্যাদা, ঈসা (আ.)-এর জন্য আকাশ?
দুই সিজদার মাঝে মহানবী (সা.) দোয়া করতেন: “ওয়ারফা’নী”, অর্থাৎ “আমাকে উন্নীত করো” (সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবু ইকামাতিস সালাত, হাদীস ৮৯৮)। লাখো মুসলমান প্রতিদিন এই দোয়া পড়েন। কেউ এর অর্থ “আমাকে সশরীরে আকাশে তুলে নাও” করেন না; সবাই বোঝেন মর্যাদা বাড়ানো।
কুরআনে বলা হয়েছে, “বরং আল্লাহ্ তাহাকে তাঁহার দিকে উন্নীত করিয়াছেন” (সূরা আন-নিসা ৪:১৫৯)। এখানে “আকাশ” শব্দটিই নেই, আছে “আল্লাহর দিকে”। আর আল্লাহ তো কোনো এক দিকে বা জায়গায় সীমাবদ্ধ নন। তবু ঠিক এই একটি জায়গায় এসে “রাফা”-র অর্থ হয়ে যায় দেহ ওপরে তোলা। এক শব্দের জন্য দুই নিয়ম কেন? পড়ুন “রাফা” শব্দের অর্থ।
৫. সাহাবীদের প্রথম ইজমা কী বলেছিল?
প্রচলিত ব্যাখ্যা বলে, ঈসা (আ.) জীবিত থাকার বিশ্বাসে উম্মতের ইজমা আছে। অথচ উম্মতের প্রথম ইজমা হয়েছিল মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের দিন। হযরত উমর (রা.) তখন শোকে বলছিলেন, মহানবী (সা.) মারা যাননি। হযরত আবু বকর (রা.) এসে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
সহীহ বুখারীতে আছে, এরপর সাহাবীরা সবাই এই আয়াত পড়তে লাগলেন, যেন আগে কখনো শোনেননি (সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, হাদীস ৪৪৫৪)। একজন সাহাবীও আপত্তি করেননি যে “সকল রসূল তো মারা যাননি, ঈসা (আ.) আকাশে জীবিত।” আপত্তিটি তুললে হযরত উমর (রা.)-এর কথার পক্ষে একটি দৃষ্টান্ত মিলে যেত। কেউ তোলেননি। তাহলে ইজমা কোন দিকে? পুরো ঘটনা পড়ুন এখানে।
৬. কিয়ামতের দিনের সাক্ষ্য আর দ্বিতীয় আগমন একসাথে চলে কি?
সূরা মায়েদার যে আয়াত ওপরে দেখলাম, সেখানে কিয়ামতের দিন আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে জিজ্ঞেস করবেন, তিনি কি মানুষকে তাঁকে আর তাঁর মাকে উপাস্য বানাতে বলেছিলেন? তিনি উত্তর দেবেন, যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম, সাক্ষী ছিলাম; তোমার দেওয়া মৃত্যুর পর তুমিই ছিলে তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ তাঁর অনুসারীরা কখন বিপথে গেল, তা তিনি জানেন না।
অথচ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি দুনিয়ায় ফিরে এসে নিজের চোখে দেখবেন, কোটি খ্রিস্টান তাঁকে উপাস্য বানিয়েছে; তিনি ক্রুশ ভাঙবেন, চল্লিশ বছর থাকবেন। যিনি সব দেখে গেছেন, তিনি কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে বলবেন “আমি জানি না”? একজন নবীর মুখে এমন কথা কল্পনা করা যায় না। দুটি বিশ্বাসের একটিকে ছাড়তেই হবে। দেখুন কিয়ামতের দিন ঈসা (আ.) কী বলবেন।
৭. ক্রুশে কাকে চড়ানো হয়েছিল, তা নিয়েই এত গল্প কেন?
প্রচলিত বিশ্বাস: ঈসা (আ.)-এর চেহারা অন্য একজনের ওপর ফেলে দেওয়া হয়েছিল, আর সেই লোককে ক্রুশে চড়ানো হয়। কিন্তু সেই লোকটি কে? তফসীরে তাবারী ও তফসীরে ইবনে কাসীরে সূরা নিসার এই আয়াতের নিচে একাধিক বর্ণনা পাশাপাশি রাখা আছে: কোথাও একজন সাহাবী স্বেচ্ছায় রাজি হয়েছিলেন, কোথাও সব সঙ্গীর চেহারাই তাঁর মতো হয়ে গিয়েছিল, পরের যুগের কোনো কোনো বইয়ে আবার বিশ্বাসঘাতককেই সেই মানুষ বলা হয়েছে।
একটি ঘটনার এতগুলো সংস্করণ মানে, কোনোটির পেছনেই মহানবী (সা.)-এর কোনো বাণী নেই। থাকলে মতভেদের প্রশ্নই উঠত না। কুরআনেও কারো চেহারা বদলানোর একটি শব্দও নেই; কুরআন অস্বীকার করেছে ক্রুশে তাঁর মৃত্যু। বিস্তারিত: “তারা তাঁকে হত্যা করেনি, ক্রুশে মারেওনি”।
৮. যাঁরা খাবার খেতেন, তাঁরা দুই হাজার বছর না খেয়ে?
আল্লাহ এখানে ঈসা (আ.) ও তাঁর মায়ের মানুষ হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছেন: তাঁরা খাবার খেতেন। ক্রিয়াটি অতীতকালের, অর্থাৎ এখন আর খান না। মায়ের বেলায় কারণটা সবাই মানেন: তিনি মারা গেছেন। একই বাক্যে ছেলের বেলায় কারণ অন্য কিছু হবে কেন? কুরআন অন্য জায়গায় বলেছে, “এবং আমরা সেই সব রসূল কে না এমন দেহ দিয়াছিলাম যে তাহারা আহার করিত না এবং না তাহারা চিরকাল বাঁচিয়া থাকিবার অধিকারী ছিল” (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯)।
প্রচলিত বিশ্বাস বলে, তিনি মানুষের দেহ নিয়েই আকাশে আছেন। সেই দেহ খাবার ছাড়া দুই হাজার বছর টিকে আছে, এ কথা কুরআনের নিয়মের সঙ্গে মেলে না। পড়ুন “তাঁরা দুজনেই খাবার খেতেন”।
দুই: মসীহ ও মাহদী নিয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা
৯. একই ঈসার দুই রকম চেহারা কেন?
সহীহ বুখারীতে মহানবী (সা.) মিরাজের রাতে দেখা ঈসা (আ.)-এর বর্ণনা দিয়েছেন: লালচে রঙ, কোঁকড়া চুল, চওড়া বুক (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৩৮)। আবার এক স্বপ্নে কাবা তাওয়াফের সময় দেখা যে মসীহের পরপরই দাজ্জালকে দেখেছেন, তাঁর বর্ণনা: বাদামি রঙ, সোজা চুল (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৪১)।
প্রচলিত বিশ্বাস বলে দুজন একই মানুষ। কিন্তু মহানবী (সা.) চেহারার বর্ণনায় ভুল করেননি। দুই চেহারা মানে দুইজন মানুষ: একজন অতীতের বনী ইসরাঈলী নবী, আরেকজন শেষ যুগে তাঁর গুণ নিয়ে আসা মসীহ। দেখুন নুযূলের হাদীস।
১০. “তোমাদের মধ্য থেকে” মানে কি আকাশ থেকে?
মহানবী (সা.) বলছেন, আগমনকারী হবেন “তোমাদের মধ্য থেকে”, অর্থাৎ এই উম্মতের একজন। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আরও স্পষ্ট: তিনি তোমাদের ইমামতি করবেন তোমাদেরই মধ্য থেকে (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদীস ১৫৫)। প্রচলিত বিশ্বাস বলে, তিনি হবেন দুই হাজার বছর আগের বনী ইসরাঈলের একজন নবী, যিনি আকাশ থেকে নামবেন। “তোমাদের মধ্য থেকে” আর “বনী ইসরাঈল থেকে, আকাশ থেকে”, দুটি কথা একসাথে কীভাবে?
১১. মাহদী আর মসীহ দুজন, নাকি একজন?
প্রচলিত বিশ্বাসে মাহদী একজন, মসীহ আরেকজন; দুজন আলাদা মানুষ একসাথে নামায পড়বেন। অথচ সুনান ইবনে মাজাহতে আছে: “লাল মাহদিয়্যু ইল্লা ঈসাবনু মারইয়াম”, অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম ছাড়া কোনো মাহদী নেই (সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, হাদীস ৪০৩৯)।
আরও লক্ষ করার মতো বিষয়: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে “মাহদী” নামটিই নেই, অথচ সেখানে আগমনকারী মসীহের কথা বারবার আছে। মাহদীর বংশ, জন্মস্থান, নাম নিয়ে অন্যান্য বইয়ের বর্ণনাগুলোও একে অপরের সঙ্গে মেলে না। সব মেলে একটি জায়গায়: মসীহ আর মাহদী একই ব্যক্তির দুটি উপাধি। পড়ুন মসীহ ও মাহদী একই ব্যক্তি এবং মাহদীর হাদীসগুলোর বৈপরীত্য।
১২. গ্রহণের হাদীস দুর্বল হলো কবে থেকে?
হিজরী চতুর্থ শতাব্দীতে ইমাম দারাকুতনী (রহ.) তাঁর সুনান-এ একটি বর্ণনা লিখে রেখেছিলেন: আমাদের মাহদীর দুটি নিদর্শন আছে; রমযানে চাঁদের গ্রহণ হবে তার গ্রহণের রাতগুলোর প্রথম রাতে, আর সূর্যের গ্রহণ হবে তার গ্রহণের দিনগুলোর মাঝের দিনে (সুনান দারাকুতনী, কিতাবুল ঈদাইন, বাবু সিফাতি সালাতিল খুসূফ ওয়াল কুসূফ)। হাজার বছর ধরে এটি বইয়ের পাতায় মাহদীর নিদর্শন হিসেবেই পড়া হয়েছে।
১৮৯৪ সালের রমযানে, ১৩ তারিখ রাতে চন্দ্রগ্রহণ আর ২৮ তারিখে সূর্যগ্রহণ হলো, আর তখন মাহদী হওয়ার দাবিদার একজন জীবিত ছিলেন। এরপর থেকেই জোর দিয়ে বলা শুরু হলো, বর্ণনাটি দুর্বল। মজার ব্যাপার, একই আলোচনায় দুটি বিপরীত কথাও বলা হয়: “হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়” এবং “গ্রহণ তো হাদীস অনুযায়ী ঠিক তারিখে হয়নি।” হাদীস না মানলে তারিখ মেলানোর দরকার কী? আর মানলে, যে নিদর্শন পূর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার কেন? পড়ুন গ্রহণের হাদীস নিয়ে আপত্তি।
১৩. প্রতি শতাব্দীতে মুজাদ্দিদ, তাহলে চৌদ্দশ শতাব্দীর জন কে?
মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শিরোভাগে এমন একজনকে পাঠাবেন, যিনি দ্বীনকে নতুন করে সজীব করবেন (সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল মালাহিম, হাদীস ৪২৯১)। প্রচলিত আলেমরা এই হাদীস মানেন, আর আগের শতাব্দীগুলোর মুজাদ্দিদদের নামও বলেন।
ভোপালের নবাব সিদ্দিক হাসান খানের মতো আহলে হাদীস আলেম লিখেছিলেন, চৌদ্দশ শতাব্দীর শুরুতে মাহদী ও মসীহ এলে তাঁরাই হবেন সেই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ। ঠিক সেই শতাব্দীর শুরুতে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) দাবি করলেন। তাঁকে না মানলে প্রশ্ন থেকে যায়: চৌদ্দশ শতাব্দীর সেই সর্বসম্মত মুজাদ্দিদ কে, যাঁর দাবি সবাই জানে? সেই শতাব্দী শেষ হয়ে গেছে, উত্তর আজও নেই। পড়ুন চৌদ্দশ শতাব্দী ও মাহদীর আগমন।
তিন: খাতামান নাবিয়্যীন নিয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা
১৪. “খাতাম” মানে শেষ, অথচ শেষের পরেও একজন?
প্রচলিত ব্যাখ্যায় “খাতাম” মানে শুধু “শেষ”, যার পরে আর কেউ নেই। কিন্তু একই ব্যাখ্যাকারীরা মানেন, শেষ যুগে একজন নবী আসবেন। “শেষ” মানে যদি সময়ের দিক থেকে সবার শেষে আসা হয়, তাহলে ঈসা (আ.) ফিরে এলে সময়ের হিসাবে শেষ নবী হবেন তিনিই, মহানবী (সা.) নন। এই ব্যাখ্যা নিজের অজান্তেই মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা থেকে কিছু কেড়ে নেয়।
আরবি ভাষায় “খাতাম” মানে মোহর, সত্যায়নকারী, আর কোনো দলের সেরা জন। আহমদী মুসলমানরা মানেন, মহানবী (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ শরীয়তবাহী নবী, তাঁর মোহর ছাড়া কোনো আধ্যাত্মিক মর্যাদা মেলে না। এই অর্থে কোনো স্ববিরোধ নেই। পড়ুন “খাতাম” শব্দের আসল অর্থ।
১৫. “কেউ কখনো অন্য অর্থ করেননি”, সত্যি কি?
প্রায়ই বলা হয়, খাতামান নাবিয়্যীনের অর্থ “সব ধরনের নবুয়্যতের শেষ”, এ নিয়ে উম্মতে কোনো দ্বিমত কখনো ছিল না। অথচ তাঁদের নিজেদের বুযুর্গদের বই অন্য কথা বলে:
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন: “তোমরা বলো, তিনি খাতামান নাবিয়্যীন; কিন্তু এ কথা বলো না যে তাঁর পরে কোনো নবী নেই” (আদ-দুররুল মানসূর, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬১৮)। মোল্লা আলী কারী (রহ.) লিখেছেন, খাতামান নাবিয়্যীনের অর্থ শুধু এই যে, তাঁর পরে এমন কোনো নবী আসবেন না যিনি নতুন শরীয়ত আনবেন এবং তাঁর উম্মতের অনুসারী নন (আল-আসরারুল মারফূআ, পৃষ্ঠা ১৯২)। হযরত শাহ ওলীউল্লাহ (রহ.) লিখেছেন, তাঁর পরে নতুন শরীয়ত নিয়ে কোনো নবী আসবেন না (কুররাতুল আইনাইন, পৃষ্ঠা ৩১৯)। আর দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবী লিখেছেন, মহানবী (সা.)-এর যুগের পরেও যদি কোনো নবী জন্ম নেন, তাতেও তাঁর খাতামিয়্যাতে কোনো পার্থক্য আসবে না (তাহযীরুন নাস, পৃষ্ঠা ৩, ২৫)।
যে বুযুর্গদের তাঁরা নিজেরাই শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের কথা যদি কুফরি না হয়, তাহলে একই কথা আহমদী মুসলমানরা বললে কুফরি হয় কোন নিয়মে? পড়ুন উম্মতের বুযুর্গরা খাতামান নাবিয়্যীনের কী অর্থ করেছেন।
১৬. “আমার পরে কোনো নবী নেই” সব অর্থে চূড়ান্ত, তবু ব্যতিক্রম?
“লা নাবিয়্যা বা’দী” হাদীসকে প্রচলিত ব্যাখ্যায় সব অর্থে চূড়ান্ত ধরা হয়। অথচ একই মহানবী (সা.) বলেছেন, তাঁর ছেলে ইবরাহীম বেঁচে থাকলে “সিদ্দীক নবী” হতো (সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবুল জানায়েয, হাদীস ১৫১১)। খাতামান নাবিয়্যীনের আয়াত নাযিলের কয়েক বছর পরের কথা এটি। নবী হওয়ার পথ সব অর্থে বন্ধ থাকলে এ কথা বলার কোনো অর্থ থাকে না।
তিনি এটাও বলেছেন, আগের উম্মতগুলোতে “মুহাদ্দাস” ছিলেন, যাঁদের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলতেন, আর তাঁর উম্মতে কেউ থাকলে তিনি উমর (সহীহ বুখারী, কিতাবু ফাযাইলি আসহাবিন নবী, হাদীস ৩৬৮৯)। আর আগমনকারী মসীহকে তিনি নিজেই নবী বলেছেন। “নবী নেই” কথাটিকে যাঁরা সব অর্থে চূড়ান্ত বলেন, তাঁরাই এসব ব্যতিক্রম মানেন। তাহলে কথাটির অর্থ নির্দিষ্ট, সর্বাত্মক নয়: শরীয়তবাহী ও স্বাধীন নবী আর আসবেন না। পড়ুন “লা নাবিয়্যা বা’দী”-র আসল অর্থ।
চার: মুসলমান কে, আর কাফের ফতোয়া কে দিল
১৭. মুসলমানের সংজ্ঞায় একমত নন, তবু রায় নিশ্চিত?
১৯৫৩ সালে পাঞ্জাবের দাঙ্গার পর বিচারপতি মুহাম্মদ মুনীর ও বিচারপতি এম. আর. কায়ানীর তদন্ত আদালত তখনকার প্রধান আলেমদের একটি সরল প্রশ্ন করেছিল: মুসলমান কাকে বলে? উত্তরগুলো পাশাপাশি রেখে আদালত লিখল, এই মৌলিক বিষয়েও কোনো দুজন বিজ্ঞ আলেম একমত নন; কোনো একজন আলেমের সংজ্ঞা নিলে আমরা তাঁর মতে মুসলমান, কিন্তু বাকি সবার সংজ্ঞায় কাফের (Report of the Court of Inquiry constituted under Punjab Act II of 1954 to enquire into the Punjab Disturbances of 1953, লাহোর, ১৯৫৪, পৃ. ২১৮)।
সেই একই আদালতের সামনে দেখা গেল, বিভিন্ন ফিরকার আলেমরা একে অপরকেও কাফের ফতোয়া দিয়ে রেখেছেন। যাঁরা “মুসলমান কে” প্রশ্নে একমত হতে পারেননি, তাঁরাই “আহমদী মুসলমানরা মুসলমান নন” প্রশ্নে পুরোপুরি নিশ্চিত। সংজ্ঞা ছাড়া রায় দেওয়া যায় কীভাবে? পড়ুন পাকিস্তান ১৯৭৪: সংসদ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
১৮. মহানবী (সা.)-এর দেওয়া সংজ্ঞা কেন যথেষ্ট নয়?
প্রচলিত আলেমরা এই হাদীসকে সহীহ মানেন। আহমদী মুসলমানরা একই কালেমা পড়েন, একই কিবলার দিকে মুখ করে একই নামায পড়েন, একই কুরআন তেলাওয়াত করেন। মহানবী (সা.)-এর মাপকাঠিতে তাঁরা মুসলমান। তবু তাঁদের অমুসলিম বলতে হলে মহানবী (সা.)-এর সংজ্ঞার ওপরে নতুন শর্ত জুড়তে হয়। যে উম্মত বলে “মহানবী (সা.)-এর পরে কেউ নতুন কিছু যোগ করতে পারে না”, সেই উম্মতের আলেমরা তাঁর দেওয়া সংজ্ঞায় শর্ত যোগ করেন কোন অধিকারে?
১৯. কাফের বলা শুরু করল কে?
একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়: আহমদী মুসলমানরা অন্য মুসলমানদের কাফের বলেন। অথচ ইতিহাস উল্টো কথা বলে। ১৮৯১ সালে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর দাবির পর ১৮৯২ সালেই দিল্লির মৌলভী নযীর হোসেন সাহেব ঘোষণা দিলেন, তাঁকে বা তাঁর অনুসারীদের সালাম দেওয়া যাবে না, তাঁদের পেছনে নামায পড়া যাবে না (ইশাআতুস সুন্নাহ, ১৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৫)। এরপর আরও অনেক আলেম একই ফতোয়া দেন।
হযরত মসীহ মওউদ (আ.) চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, কেউ দেখাক যে তাঁর পক্ষ থেকে আগে কাউকে কাফের বলা হয়েছিল; কেউ দেখাতে পারেনি। যাঁরা প্রথম ফতোয়া দিলেন, তাঁরাই আবার অভিযোগ করেন যে তাঁদের কাফের বলা হয়েছে। পড়ুন কে আগে কাকে কাফের বলেছিল।
পাঁচ: একই নিয়ম, দুই রকম প্রয়োগ
২০. শাস্তির সতর্কবাণী তওবায় সরে যায়, শুধু এখানে নয়?
কুরআন শেখায়, শাস্তির সতর্কবাণী মানুষ তওবা করলে সরে যেতে পারে। হযরত ইউনুস (আ.)-এর জাতির ঘটনা এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ:
ফেরাউনের দরবারের সেই মু’মিন ব্যক্তিও বলেছিলেন, নবী সত্যবাদী হলে তাঁর ভয় দেখানো শাস্তির “কিয়দংশ” তোমাদের ওপর আসবে (সূরা আল-মু’মিন ৪০:২৯), পুরোটা নয়। কোনো মুসলমান এ কারণে ইউনুস (আ.)-কে মিথ্যাবাদী বলেন না।
অথচ আব্দুল্লাহ আথমের ভবিষ্যদ্বাণীর মূল বাক্যেই শর্ত লেখা ছিল, “শর্ত এই যে, সে সত্যের দিকে ফিরে না আসে” (জঙ্গে মুকাদ্দাস, রূহানী খাযায়েন ৬, পৃ. ২৯১-২৯২)। মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের ভবিষ্যদ্বাণীর কেন্দ্রেও ছিল তওবার শর্ত। এখানে এসে সেই কুরআনি নিয়মটি আর মানা হয় না। একই নিয়ম একজন নবীর বেলায় সত্য, আরেকজনের বেলায় অচল? পড়ুন আথমের ভবিষ্যদ্বাণী ও মুহাম্মদী বেগমের ভবিষ্যদ্বাণী।
২১. “মিথ্যাবাদী আগে মরে”, এই নিয়ম কার?
বলা হয়, মৌলভী সানাউল্লাহ অমৃতসরীর আগে মারা যাওয়ায় প্রমাণ হলো হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) সত্য ছিলেন না। অথচ ১৯০৭ সালের ২৬ এপ্রিলের “আহলে হাদীস” পত্রিকায় মৌলভী সাহেব নিজেই লিখে জানিয়েছিলেন, এই ফয়সালায় তাঁর সম্মতি নেই; আর তাঁর সমর্থনে লেখা হয়েছিল, আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের দীর্ঘ আয়ু দেন। কয়েক মাস পর তিনি নিজেই লিখলেন, মহানবী (সা.) মিথ্যা দাবিদার মুসায়লামার আগে ইন্তেকাল করেছিলেন।
অর্থাৎ মৌলভী সাহেবের নিজের নীতিতে আগে মারা যাওয়া মিথ্যার প্রমাণ নয়, বরং মিথ্যাবাদীই দীর্ঘ আয়ু পায়। সেই নীতি মেনে চললে তাঁর দীর্ঘ জীবন তাঁর পক্ষে কোনো প্রমাণ নয়। যে নিয়ম তিনি নিজে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, পরে সেই নিয়মকেই জয়ের দলিল বানানো যায় না। পুরো ঘটনা: সানাউল্লাহর সাথে “শেষ ফয়সালা”।
২২. একই ফতোয়া, একজনের বেলায় “ষড়যন্ত্র”?
সবচেয়ে বেশি শোনা অভিযোগগুলোর একটি: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) ইংরেজদের খুশি করতে জিহাদ “বাতিল” করেছিলেন। অথচ তিনি বলেছিলেন, এই দেশে, এই যুগে তলোয়ারের জিহাদের শর্ত নেই, কারণ মুসলমানরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারছেন।
ঠিক একই কথা লিখেছিলেন তাঁর ঘোর বিরোধী আহলে হাদীস নেতা মৌলভী মুহাম্মদ হুসাইন বাটালভী: যে সরকারের অধীনে মুসলমানরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জায়েয নয় (ইশাআতুস সুন্নাহ, খণ্ড ৬, সংখ্যা ১০)। মৌলভী সৈয়দ নযীর হুসাইন দেহলভী ফতোয়া দিয়েছিলেন, এ দেশে জিহাদের শর্ত নেই (ফতোয়ায়ে নযীরিয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ৪৭২)। তাঁদের কেউ এ কারণে “ইংরেজের চর” খেতাব পাননি। একই রায় একজনের বেলায় ফিকহ, আরেকজনের বেলায় ষড়যন্ত্র? পড়ুন জিহাদ স্থগিতের অভিযোগ।
যে প্রশ্নগুলো ওঠে
এগুলো তো আলাদা আলাদা আলেমের মত; সবাইকে এক পাল্লায় মাপা কি ঠিক?
ঠিক প্রশ্ন। তাই এই লেখায় আমরা প্রায় সব জায়গায় এমন বিশ্বাস নিয়েছি, যা মসজিদের খুতবা, ওয়াজ আর বিতর্কে সাধারণভাবে বলা হয়: ঈসা (আ.) সশরীরে আকাশে, খাতাম মানে শুধু শেষ, মাহদী ও মসীহ দুজন। স্ববিরোধ ধরা পড়েছে এই প্রচলিত বিশ্বাসগুলোর ভেতরেই, কোনো একজন আলেমের ভুলে নয়। আর যেখানে কোনো আলেমের নাম এসেছে, সেখানে তাঁর নিজের বই আর পাতার নম্বর দেওয়া আছে, যাতে যে কেউ মিলিয়ে দেখতে পারেন।
আহমদী মুসলমানদের ব্যাখ্যায় কি কোনো স্ববিরোধ নেই?
প্রশ্নটি ন্যায্য, আর এর উত্তর দেওয়ার উপায়ও একটাই: একই মাপকাঠি। আহমদী মুসলমানদের ব্যাখ্যায় “তাওয়াফ্ফা” সবার জন্য মৃত্যু, ঈসা (আ.)-এর জন্যও। “রাফা” সবার জন্য মর্যাদা, ঈসা (আ.)-এর জন্যও। মহানবী (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ শরীয়তবাহী নবী, আর আগমনকারী মসীহ তাঁরই উম্মতের একজন, তাঁরই অনুসারী; তাই “নাবিউল্লাহ” আর “তোমাদের মধ্য থেকে” দুটি কথাই একসাথে সত্য থাকে। মসীহ ও মাহদী একজন, তাই ইবনে মাজাহর হাদীসও খাপ খায়। অভিযোগ তোলা হয়েছে অনেক; প্রতিটির উত্তর এই সাইটে দলিলসহ আলাদা করে দেওয়া আছে।
একটি স্ববিরোধ দেখিয়ে কি পুরো বিশ্বাস ভুল প্রমাণ হয়?
একটি দিয়ে হয়তো নয়। কিন্তু এখানে বিষয় একটি নয়, বাইশটি। আর এগুলো ছোটখাটো খুঁটিনাটিও নয়: শব্দের অর্থ, সাহাবীদের ইজমা, মহানবী (সা.)-এর নিজের দেওয়া বর্ণনা আর সংজ্ঞা। যে ব্যাখ্যা টিকিয়ে রাখতে বারবার এক নিয়ম এক জায়গায় মানতে আর আরেক জায়গায় ফেলে দিতে হয়, তার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। কুরআন নিজেই বলেছে, আল্লাহর বাণীতে অসঙ্গতি থাকে না। তাই যে ব্যাখ্যা অসঙ্গতি ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, সেটি আল্লাহর বাণীর সঠিক ব্যাখ্যা কি না, তা ভেবে দেখার দাবি রাখে।
সংক্ষেপে
- “তাওয়াফ্ফা” আর “রাফা” শব্দের অর্থ সবার জন্য এক, শুধু ঈসা (আ.)-এর বেলায় আলাদা: প্রচলিত ব্যাখ্যার মূল স্ববিরোধ এখানেই।
- “শেষ নবী” বিশ্বাসের সাথে একজন নবীর ফিরে আসা, “তোমাদের মধ্য থেকে” কথার সাথে বনী ইসরাঈলী নবী, আর দুই চেহারার সাথে একই মানুষ মেলে না।
- হযরত আয়েশা (রা.), মোল্লা আলী কারী, শাহ ওলীউল্লাহ ও নানুতুবীর মতো বুযুর্গরাই শরীয়তবাহী নবুয়্যতের সমাপ্তির কথা বলেছেন; তাঁদের কথা কুফরি না হলে আহমদী মুসলমানদের কথাও নয়।
- মুসলমানের সংজ্ঞায় আলেমরা একমত হতে পারেননি (মুনীর রিপোর্ট, পৃ. ২১৮), অথচ মহানবী (সা.)-এর সংজ্ঞা (বুখারী ৩৯১) পরিষ্কার; আর কাফের ফতোয়া প্রথম এসেছিল বিরোধীদের দিক থেকে।
- শর্তযুক্ত সতর্কবাণী, “আগে মৃত্যু” আর জিহাদের ফতোয়া: একই নিয়ম অন্যদের বেলায় মানা হয়, শুধু হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর বেলায় নয়।
আরও পড়তে চাইলেFurther reading
- 30 Verses of the Holy Quran which Prove the Natural Death of Jesus Christ · alislam.org
- Profound Interpretations of Khatamun Nabiyyin by Muslim Thinkers · alislam.org
কুরআনের আয়াত নম্বর এমন গণনায়, যেখানে বিসমিল্লাহ প্রথম আয়াত; প্রচলিত গণনায় সাধারণত এক কম।Quran verse numbers count Bismillah as the first verse; in the common count they are usually one less.